এম আব্দুল মান্নান
বাংলার সোনালি ধন রুপালি ইলিশ - এই বছর জেলে দের জালে ঝাকে ঝাকে ধরা পড়ছে। কক্সবাজার ফিশারীঘাটে নিত্যদিন ভরপুর বোটভর্তি ইলিশের পসরা। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, বাজারে সেই ইলিশ সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। মধ্যবিত্তের হাঁড়িতে আজও ইলিশ বিলাসিতা।
জেলেদের অভিযোগ—ঘাটে টন টন ইলিশ নামালেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। আবার বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম হয় আকাশছোঁয়া। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এই ইলিশ যায় কোথায়? ক্রেতাসাধারণ বলছে, চোরাই পথে পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। অন্যদিকে জেলেরা দুষছেন বাজার সিন্ডিকেটকে, যারা অবতারণ কেন্দ্রেই দাম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিন পক্ষ—সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, জেলে হারাচ্ছে ন্যায্য মূল্য, আর ভোক্তা হারাচ্ছে ইলিশের স্বাদ।
প্রতিবছর ভরা মৌসুমে একই চিত্র। নৌকা ভরা ইলিশ, অথচ বাজারে দামের আগুন। এই বৈপরীত্যের দায় এড়াতে পারে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। অন্যথায় ইলিশ নিয়ে এই বৈপরীত্য চলতেই থাকবে।
জাতীয় মাছ শুধু রপ্তানি আয় নয়, কোটি মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতিরও অংশ। তাই ইলিশের বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, জাতীয় গৌরবেরও অবমূল্যায়ন। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’র পরিচয় ভবিষ্যতে শুধু বইয়ের পাতায়ই সীমাবদ্ধ থাকবে।