বিশেষ প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ার আজমাল হোসেন (প্রবীণ, কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগী) গোরকঘাটা বাজারে হেঁটে হেঁটে লুঙ্গি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। অসুস্থ স্ত্রী ও সংসারের ব্যয় মেটাতে এটাই তার একমাত্র আয়ের উৎস।
গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) মাগরিবের আজানের সময় প্রতিদিনের মতো একটি দোকানের সামনে লুঙ্গির ব্যাগ (প্রায় ৪০টি) রেখে নামাজে যান তিনি। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন ব্যাগটি নেই। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেলেও চোরের মুখ স্পষ্ট নয়। ফলে তিনি হতাশায় ভেঙে পড়েন।
ব্যাগ হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া আজমাল হোসেনের ভিডিও ও ছবি বাজারের ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। সেই পোস্ট ফয়সাল আমিনের চোখে পড়ে। তিনি তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে আজমালের হাতে মালের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৪ হাজার টাকা ও স্ত্রীর ওষুধের জন্য ৩ হাজার টাকা তুলে দেন।
টাকা হাতে পেয়ে আজমাল হোসেন আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,"আমি এখন টেনশন মুক্ত। মালামাল ও স্ত্রীর ওষুধের জন্য টাকা পেয়েছি। এর চেয়ে আনন্দ আর কী হতে পারে!"
সহায়তা প্রসঙ্গে ফয়সাল আমিন বলেন—"মানুষ মানুষের জন্য। একজন অসহায় বৃদ্ধকে কাঁদতে দেখে আমি চুপ থাকতে পারিনি। আমি চাই না অর্থের অভাবে কারও জীবনে অন্ধকার নেমে আসুক। আল্লাহ চাইলে আমার এই সামান্য সহযোগিতা তার মুখে হাসি ফিরিয়ে দেবে।"