এম আজিজ সিকদার
গণতন্ত্রে জনগণের মতামতকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার জন্য আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি বা পিআর (Proportional Representation) অনেক দেশে চালু হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে—এই পদ্ধতি অধিকাংশ সময় স্থিতিশীলতার বদলে অস্থিতিশীলতাই বয়ে আনে, আর এর বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকেই।
ইসরায়েলে প্রায় প্রতি দুই বছর অন্তর নির্বাচন হয়, কারণ ছোট ছোট দল ছাড়া কোনো সরকার টিকে না। ইতালি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ৬০টির বেশি সরকার পরিবর্তনের নজির গড়েছে। নেপালে ১৩ বছরে ১৭ বার নির্বাচন হয়েছে—জনগণ যেন কেবল ভোট দিয়েই ব্যস্ত থেকেছে, উন্নয়ন বা স্থিতিশীলতা তেমন কিছু পায়নি। বেলজিয়ামে একবার সরকার গঠনে ৫৪১ দিন লেগেছিল, নেদারল্যান্ডসেও মাসের পর মাস সরকার গঠন আটকে থাকে।
এসব উদাহরণ স্পষ্ট করে—পিআর পদ্ধতিতে সংসদে নানা ক্ষুদ্র দলের আসন মিললেও সরকার হয় দুর্বল, সিদ্ধান্ত হয় বিলম্বিত, আর উন্নয়ন হয় স্থবির। বারবার নির্বাচন, জোট ভাঙাগড়া আর প্রশাসনিক অচলাবস্থার ভোগান্তি শেষমেষ গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের কাঁধে।
তাই প্রশ্ন থেকেই যায়: আমরা কি এমন একটি পদ্ধতি চাই যেখানে ভোট গণনার অঙ্ক মিলে, কিন্তু মানুষের জীবনের অঙ্ক বারবার জটিল হয়ে ওঠে? নাকি আমরা চাই স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই শাসনব্যবস্থা, যেখানে জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে?