কলা চাষ করে মাসে লাখ টাকা আয়
বিশাল জমি, ক্ষেতে সারি সারি সবুজ কলাগাছ—চাষি মমতাজ আহমেদের মুখে তৃপ্তির হাসি। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের এই সফল সবজি চাষি এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য দৃষ্টান্ত ও অনুকরণীয় একজন মানুষ।
মমতাজ বর্তমানে দুই একর জমিতে তিন ফসলি আবাদ করে বছরে কমপক্ষে ছয় ধাপে সবজি চাষ করছেন। প্রতিটি মৌসুমেই লাখ টাকার বেশি আয় হয় তার। তবে এ বছর তিনি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন—কলা চাষে।
তিনি জানান, পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে প্রায় পাঁচ বছর আগে মাত্র ৩০ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই সাফল্য পান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সবজি বিক্রির টাকায় তিনি ইতিমধ্যে বাড়ি ও বসতভিটার পাশাপাশি নতুন জমিও কিনেছেন।
অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা; ফাল্গুন-চৈত্রে পুঁইশাক, পালংশাকসহ বিভিন্ন সবজি; আর বৈশাখে শসা, চিচিঙ্গা, করলা ও চালকুমড়ার আবাদ করেন তিনি। সেই সঙ্গে রবি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রদর্শনী হিসেবে নতুন জাতের বীজ ধান উৎপাদনেও সফল হয়েছেন।
রাসায়নিক সারের পাশাপাশি নিজের তৈরি জৈব সার ব্যবহার করেন মমতাজ। সেচের জন্য ক্ষেতের পাশে খনন করা পুকুর ব্যবহার করেন, এতে খরচ কমে ও ফলনও ভালো হয়। প্রতিদিন অন্তত তিনজন শ্রমিক কাজ করেন তার ক্ষেতে।
সবজি চাষের পাশাপাশি চলতি মৌসুমে কলা চাষ শুরু করেছেন তিনি। আশা করছেন, সব খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো মুনাফা হবে।
তার এই সাফল্যে কৃষি কর্মকর্তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাগর বলেন, “মমতাজ একজন সফল ও অনুকরণীয় চাষি। তাকে দেখে এলাকায় অনেকেই সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সবজি ও নানান ফসল চাষ করেও যে একজন কৃষক তার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে পারেন—মমতাজ আহমেদ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি আধুনিক কৃষক হিসেবে সারাবছর চাষাবাদ করে মাসে লাখ টাকা আয় করছেন। এবছর কলা চাষ করে তিনি মহেশখালীতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।”