প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৪:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৭, ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ

এম আজিজ সিকদার
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী ও জেলার একমাত্র টোলমুক্ত পশুর হাট “গোরকঘাটা গরুর বাজার” এখন পরিণত হয়েছে হাজারো মানুষের মিলনমেলায়। গত দুই দিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে পুরো বাজার এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করেছে।
মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা পান বাজার মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই পশুর হাট। আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ২৬ মে থেকেই বাজারে মানুষের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় এখন কোরবানির পশু কেনাবেচার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পশু ব্যবসায়ী ট্রলার, পিকআপ ও ট্রাকযোগে গরু নিয়ে আসছেন এই বাজারে। বাজারজুড়ে দেশীয় বড় গরু, মাঝারি গরু, ষাঁড়, বাছুরসহ বিভিন্ন ধরনের কোরবানির পশুর সমারোহ লক্ষ্য করা গেছে।
ধারাভাষ্যকার শফিকুল ইসলাম শফির প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে আলাদা প্রাণচাঞ্চল্য। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠছে পুরো বাজার এলাকা। বাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী খাবারের দোকান, চা স্টল, ফলের দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।
জেলার একমাত্র টোলবিহীন পশুর হাট হিসেবে পরিচিত গোরকঘাটা গরুর বাজার গত ১২ বছর ধরে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এখানে কোনো পশু বিক্রেতা কিংবা ক্রেতার কাছ থেকে টোল, হাসিল বা অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা হয় না। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা স্বস্তিতে বেচাকেনা করতে পারছেন।
মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক চেয়ারম্যান বলেন, “গোরকঘাটা গরুর বাজার এখন শুধু একটি পশুর হাট নয়, এটি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আমরা চাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করতে পারেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষও যেন স্বস্তিতে ও ন্যায্যমূল্যে কোরবানির পশু কিনতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
বাজার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতা উল্লাহ বোখারী বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও টোলমুক্ত বাজার পরিচালনায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ রাত্রিযাপন, বিশুদ্ধ খাবার পানি, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, পশু রাখার নির্ধারিত স্থান ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক টিম দিনরাত কাজ করছে যাতে কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন।”
বাজারে আসা ব্যবসায়ী নুরুল আজিম বলেন, “দেশের অনেক পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল ও দালালদের কারণে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু গোরকঘাটা বাজার সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে কোনো জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয় না। নিরাপত্তাও ভালো, তাই আমরা প্রতি বছর এখানে আসি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, টোলমুক্ত হওয়ায় এই বাজারে পশুর দামও তুলনামূলক সহনীয় থাকে। এতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে কোরবানির পশু কিনতে পারেন।
এদিকে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে পুরো বাজার এলাকা মুখরিত হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী দুই দিন বাজারে বেচাকেনা আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং এবারও জেলার অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় পশুর হাট হিসেবে গোরকঘাটা গরুর বাজার নতুন ইতিহাস গড়বে।