
গরিব-অসহায় রোগীদের ভরসার নাম মহেশখালীর “মানবতার ফেরিওয়ালা”
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা পাহাড় সমুদ্র বেষ্টিত জনপদ মহেশখালীতে মানবিক চিকিৎসাসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. নুরুল হোছাইন। নিজ জন্মভূমিতে অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করে সপ্তাহে একদিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন তিনি,যা সম্প্রতি ১০ বছরে পদার্পণ করেছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন “মানবতার ফেরিওয়ালা” হিসেবে পরিচিত।
মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটার এই কৃতী সন্তান কক্সবাজারে ম্যাক্স হোমিওপ্যাথি কোম্পানির তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তবে অর্থের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত মহেশখালীর মানুষদের জন্য তিনি নিজ বাড়িতে নিয়মিত ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করেন। তাঁর সহমর্মী আচরণ, ধৈর্যসহ রোগীর কথা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা এড়িয়ে চলার কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুধাগাজী পুকুরপাড়ের উত্তর পাশে তাঁর বাসভবনের সামনে অর্ধশতাধিক রোগী ও স্বজনরা চিকিৎসার অপেক্ষায় ছিলেন। সিরিয়াল অনুযায়ী শান্ত পরিবেশে চলছে চিকিৎসা পরামর্শ। চিকিৎসা নিতে আসা ষাটোর্ধ আবু ছৈয়দ বলেন, দীর্ঘদিন অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টে ভুগেও বিভিন্ন জায়গায় ভালো না হলেও ডা. নুরুল হোছাইনের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়েছেন।
মিনুআরা বেগম ও মাসুদা বেগমও তাঁর চিকিৎসায় উপকৃত হওয়ার কথা জানান। দরিদ্র রোগী লিপি রানী বলেন, তিনি ফি নেননি এবং তাঁর ব্যবহার অত্যন্ত মানবিক।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা লোকমান নামের এক ক্রনিক লিভার সিরোসিস রোগীর সুস্থতা। দীর্ঘদিন অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা করে সর্বস্ব হারানোর পর তিনি এই ফ্রি হোমিওপ্যাথি সেবায় এসে সুস্থ হন,যাকে তাঁর পরিবার “আল্লাহর বিশেষ রহমত” বলে মনে করে।
ডা. নুরুল হোছাইন বলেন, “জন্মভূমির মানুষের জন্য কিছু না করলে আমার পেশার পূর্ণতা আসবে না,এই ভাবনা থেকেই ফ্রি চিকিৎসা চালু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, মানুষের ভালোবাসায় আমি আজ সফল।


