
ফাহিমুল ইসলাম (নিজস্ব প্রতিবেদক)
কক্সবাজারের মহেশখালী পুটিবিলা বায়তুল শরফ শাহ কুতুব উদ্দীন (রহ.) হেফজখানা ও এতিমখানায় ২১ জানুয়ারি বুধবার আয়োজিত হিফজ সমাপন ও দোয়া মাহফিল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে ৮ জন ছাত্র তাদের কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন এবং বিশেষ অতিথি ও বক্তাদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, বি.এ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা আ.স.ম জাহেদুল হক নাহিদ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় মর্যাদার সঙ্গে, যেখানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হাফেজ মাওলানা একরামুল হক, হেফজ বিভাগীয় প্রধান, আল জামিয়া ইসলামিয়া গোরকঘাটা মাদ্রাসা। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মুসা। সভাপতিত্ব করেন মাওলানা জহিরুল উদ্দিন, সভাপতি, বায়তুশ শরফ শাহ কুতুব উদ্দিন (রহ.) হেফজখানা ও এতিমখানা। সেক্রেটারি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নুরুল কুদ্দুস। পরিচালনায় ছিলেন হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম, অত্র মাদ্রাসার পরিচালক।

হিফজ সমাপনকারী ছাত্ররা: হাফেজ আল মাহমুদ সোয়াদ,হাফেজ শাহ নেওয়াজ ফরিদ তামিম,হাফেজ আবিদুল ইসলাম,হাফেজ রাইহান উদ্দীন,হাফেজ আকিবুল হাসান,হাফেজ ইরফান চৌধুরী,হাফেজ আরমান চৌধুরী,হাফেজ শাহজাহান
প্রধান অতিথি সরওয়ার আজম বি এ বলেন, “কুরআন শিক্ষা শুধু একটি ধর্মীয় কর্তব্য নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। এই ছাত্ররা আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। তাদের সাফল্য কেবল তাদের নিজেদের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য গর্বের বিষয়।
বিশেষ অতিথি আ.স.ম জাহেদুল হক নাহিদ বলেন, “আমরা আশা করি এই ছাত্ররা আগামী দিনে ইসলামের আলোকে সমাজে নেতৃত্ব প্রদান করবে।
প্রধান আলোচক হাফেজ মাওলানা একরামুল হক বলেন, “হিফজ সমাপন শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতারও প্রতীক। এই ছাত্ররা যারা আজ কুরআন হিফজ সমাপন করেছে, তাদের মাধ্যমে আমরা আশাবাদী যে পরবর্তী প্রজন্ম কুরআন শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী হবে।
বিশেষ বক্তা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মুসা বলেন, “এই ছাত্ররা শুধু কুরআনের হিফজ করেছে, তারা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের জীবনে সফলতা ও আল্লাহর রহমত কামনা করছি।
প্রধান বক্তা হযরত মাওলানা কারী হারুনুর রশিদ বলেন, “যখন একটি শিশুর হাতে কুরআন আসে, তখন শুধু সে ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের উন্নতি ঘটে। এই ছাত্ররা আজ যে পথে চলেছে, তা তাদের জীবনে সৌভাগ্য আনবে এবং সমাজে ইসলামের আলো ছড়াবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অংশ হিসেবে, অত্র মাদ্রাসার ৩ জন মেধাবী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তাদের অনন্য অবদান, নিষ্ঠা ও হিফজ শিক্ষা প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
এই দোয়া মাহফিল কেবল একটি সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ইসলামের মূল শিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস।
হেফজ সমাপনকারী ছাত্রদের জীবন এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যা তাদের সারা জীবন আল্লাহর পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে। অনুষ্ঠান শেষে সকল অতিথি, শিক্ষক এবং ছাত্রদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ভবিষ্যতের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়।


