মাতারবাড়ী প্রকল্পে বয়লার ক্লিনারের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা, ৫ শ্রমিক গুরুতর আহত

মহেশখালী প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে বয়লার ক্লিনারের কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৫ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বয়লারের ভেতরে আনুমানিক ৬৪ মিটার উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে তারা মারাত্মকভাবে আহত হন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রকল্পের ইউনিট-২ বয়লারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে মাতারবাড়ী ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
আহত শ্রমিকরা হলেন, গন্ডোলা অপারেটর মগডেইল এলাকার মুহাম্মদ আনোয়ার, ক্লিনার মাইজপাড়া এলাকার মুহাম্মদ পারভেজ, মগডেইল এলাকার মুহাম্মদ সাহেদ, হাবিব উল্লাহ এবং মুহাম্মদ রাইহান।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ইস্পাত বিল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানির অধীনে শ্রমিকরা বয়লার ক্লিনারের কাজ করতে গন্ডোলার মাধ্যমে বয়লারের ভেতরে ১২ মিটার নিচ থেকে উপরে প্রায় ৬৪ মিটার উচ্চতায় ওঠেন। কাজ চলাকালীন হঠাৎ করে গন্ডোলাটি উপর থেকে পড়ে গেলে এতে থাকা পাঁচজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
ঘটনাটি ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গন্ডোলায় শ্রমিক ওঠানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই করা হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইস্পাত বিল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের বয়লার ক্লিনিং কার্যক্রমে সরকারি বিধি-বিধান ও নিরাপত্তা নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শ্রমিক সুরক্ষা মানদণ্ড উপেক্ষা করেই বয়লার পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, বয়লার ক্লিনিংয়ের সময় বাধ্যতামূলক সেফটি গিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অপারেটর ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে, যা শ্রমিকদের জীবন ও স্থাপনার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও পরিবেশগত নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া হয় না। ঝুঁকি আছে জেনেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।”
এ বিষয়ে ইস্পাত বিল্ডিং অ্যান্ড টেকনোলজি কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :
Leave a Reply
More News Of This Category


