বর্ষায় সোনাদিয়া–ঘটিভাঙ্গার অবৈধ চিংড়ি প্রজেক্ট উচ্ছেদ করা হবে: এমপি ফরিদ

মোহাম্মদ হেলাল আহমেদ
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকার প্যারাবন কর্তন, বেড়িবাঁধের ঝুঁকি, অবৈধ চিংড়ি প্রজেক্ট, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম এবং সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) মহেশখালী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার–২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
সভায় এমপি ফরিদ বলেন, সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা উপকূলীয় এলাকার প্যারাবন ধ্বংস ও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চিংড়ি প্রজেক্টগুলো পরিবেশ ও মানুষের জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে এসব এলাকায় কোনো অবৈধ চিংড়ি প্রজেক্ট থাকতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় প্যারাবন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব বন রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্যারাবন কেটে বা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা কিংবা চিংড়ি প্রজেক্ট গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতা উল্লাহ বোখারী। এতে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক চৌধুরী, এডভোকেট নুরুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
মতবিনিময় সভায় একটিভিস্ট রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন,নব্য রাজনীতিবিদ, পুরানো রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের কিছু ব্যক্তি মিলেমিশে বাইরে থেকে ব্যবসায়ী এনে এখানে ব্যবসা করাচ্ছে।তিনি দাবি করেন, এতে স্থানীয় সম্পদ ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং এলাকার প্রকৃতি ও মানুষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সোনাদিয়া দ্বীপের প্যারাবন ধ্বংস ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গত ১ এপ্রিল বন বিভাগ ৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, উপকূলীয় বনভূমি রক্ষা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকার প্যারাবন রক্ষা, বেড়িবাঁধ সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :
Leave a Reply
More News Of This Category


