মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
Headline
Headline
মহেশখালীতে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হামের অন্ধকার ঠেকাতে মহেশখালীতে সুরক্ষার টিকা সোনাদিয়া ও জলদস্যুতা ইস্যুতে নৌবাহিনী প্রধানের সাক্ষাতে এমপি ফরিদ বর্ষায় সোনাদিয়া–ঘটিভাঙ্গার অবৈধ চিংড়ি প্রজেক্ট উচ্ছেদ করা হবে: এমপি ফরিদ মহেশখালীতে গ্র্যাভিটন একাডেমির ট্যালেন্ট হান্ট বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ​মহেশখালীর কালারমারছড়া স্মরণকালের বৃহৎ ক্বেরাতও হামদ- প্রতিযোগিতা সম্পন্ন সোনাদিয়ার সবুজ সাম্রাজ্যে লুটে- ত্রিশ জনের বিরুদ্ধে মামলা মিষ্টি পাতায় স্বপ্ন বুনে লোকসানের বোঝা চাষির কাঁধে প্রকৃতি দিয়েছে সব, তবে পরিকল্পনায় পিছিয়ে মহেশখালী তেলের ঘাটতিতে থেমে যাচ্ছে মহেশখালী–কক্সবাজারের নৌযাত্রা
সোনাদিয়ার সবুজ সাম্রাজ্যে লুটে- ত্রিশ জনের বিরুদ্ধে মামলা
/ ২১৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ

মোঃ ফাহিম (নিজস্ব প্রতিবেদক)

মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে সংরক্ষিত উপকূলীয় বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে বন বিভাগ। প্রায় ৫ হাজার একর বনভূমি দখল ও ব্যাপক গাছ নিধনের ঘটনায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় যৌথ অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটিভাঙ্গা বিটের বিট কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) বিভাষ কুমার মালাকার (৪৬) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। উপকূলীয় বন বিভাগ চট্টগ্রামের অধীন মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন। মামলার এজাহারে  উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সোনাদিয়া দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বনভূমি দখল করে আসছে এবং সেখানে নির্বিচারে গাছ কেটে বন উজাড় করছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বনভূমির গাছ কেটে সেখানে ঘরবাড়ি, কটেজ ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছে। ফলে শুধু বনভূমি ধ্বংসই নয়, দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হয়েছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,গত( ১লা এপ্রিল) বুধবার বন বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সোনাদিয়া এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বনভূমি দখল, গাছ নিধন ও অবৈধ স্থাপনার নানা প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মোঃ মারুফুল ইসলাম (২০) নামে এক ব্যক্তিসহ দুইজনকে আটক করা হয়। তারা কক্সবাজার জেলার চকরিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মামলায় আসামী করা হয়েছে — কুতুবজোমের ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামাল, মোঃ ছিদ্দিক রিমন, মোস্তফা আনোয়ার চৌধুরী, মোঃ শমসের, সাজেদুল করিম, সৈয়দুল হক সিকদার, মহসিন আনোয়ার, একরামুল হক, কালু মিয়া, কাইছার সিকদার, মোহাম্মদ শাহেদ, ডা. আমজু, রবি আলম, ওসমান আলী, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আমিন, ইমতিয়াজ উদ্দিন নকিব, নজরুল ইসলাম, সাজ্জাদ, নাজিম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, শামশুল আলম, আবদুর রহিম, আব্বাস মিয়া, নুরুল আমিন খোকা, আজিজুল হক, নুরুল আজিম ও মোহাম্মদ রফিকসহ আরও অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাদিয়া দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে গাছ কাটা, জমি দখল এবং নতুন বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও ছিল। সাম্প্রতিক অভিযানের মাধ্যমে বন বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসে।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলতান বলেন,সোনাদিয়া দ্বীপে সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও গাছ নিধনের ঘটনায় বন বিভাগের দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যৌথ অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ধ্বংস ও বনভূমি দখলের মতো অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম  বলেন,সোনাদিয়া দ্বীপের বনভূমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় পরিবেশের অংশ। কোনোভাবেই সংরক্ষিত বনভূমি দখল বা গাছ নিধন বরদাশত করা হবে না। প্রশাসন, বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও বন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী আজিজ সিকদার বলছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের উপকূলীয় বনাঞ্চল শুধু স্থানীয় পরিবেশ নয়, পুরো উপকূলীয় এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় এসব বনভূমি ঢেউয়ের গতি কমিয়ে উপকূলীয় জনপদকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া এই এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, মাছ ও বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল রয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও গাছ নিধনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সোনাদিয়া দ্বীপের বনভূমি রক্ষায় নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তারা।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সোনাদিয়ার বনভূমি দখল ও ধ্বংসের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী দখলদার চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রভাব খাটিয়ে বনভূমি দখল করে সেখানে অবৈধ বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে। ফলে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

এই মামলার মাধ্যমে সোনাদিয়া দ্বীপে বনভূমি দখল ও গাছ নিধনের বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা দেওয়া হলো। তবে বাস্তবিক অর্থে বন রক্ষা করতে হলে দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page