
মহেশখালী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহেশখালী উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদ শফিউল আলম শফির প্রথম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে স্মরণসভা ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শফি হত্যাকাণ্ডের এক বছর অতিবাহিত হলেও মহেশখালী থানা পুলিশ এখনও পর্যন্ত হত্যার সাথে জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য থানার ওসির প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি এখলাছুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারী পৌর বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেন ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সরোয়ার রানা ও ছাবের হোসেন রানা, মাতারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আরিফুল কাদের চৌধুরী, শাফলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজল আহমেদ, কুতুবজুম ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শফিউল আলম শফি, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক খাইরুল কবির নাসির, কুতুবজুম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর চৌধুরী, ছোট মহেশখালীর সদস্য সচিব মাস্টার কবির আহমদ এবং কালামারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আবছার।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তাফা কামাল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আনোয়ার পাশা, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সাহাব উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নসর উল্লাহ, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ মো. আরাফাত, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাসেম এবং ছাত্রদলের সাবেক মহেশখালী কলেজ সভাপতি মিজানুর রহমান।
সভায় বক্তারা শহিদ শফিউল আলম শফিকে স্মরণ করে বলেন—মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এখলাছুর রহমান বলেন, “শফি ছিলেন সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তার রক্তের ঋণ আমরা ভুলব না।”
জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, “এক বছরেও হত্যাকারীরা ধরা না পড়া দুঃখজনক। এটি প্রমাণ করে সরকারের ইচ্ছাশক্তির অভাব রয়েছে। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার করতে হবে।”
জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ বোখারী বলেন, “শফি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা রাজপথে থাকব ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য।”
পৌর বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেন বলেন, “শফি ভাই শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষের ভরসার জায়গা। তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।”
মাতারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আরিফুল কাদের চৌধুরী বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত। প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।”
শাফলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বজল আহমেদ বলেন, “শফি ভাই ছিলেন নির্ভীক নেতা। তার অনুপস্থিতি আমাদের আন্দোলনে শূন্যতা তৈরি করেছে।”
সভায় শফি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।


