
এম বশির উল্লাহ, মহেশখালি
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বড় কর্তার ভাব নিয়ে ঝাড়ুদার পেশার সাথে নিয়োজিত মীর কাসেম ও তার ভাগিনা কম্পিউটার ম্যান আবদুল মালেক এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েবসহ অফিসের ভেতরে থেকে সরকারি অফিসের গোপনীয়তা ফাঁস করা, অবৈধ সুযোগ নিয়ে সরকারি নথি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই ভাবে নামজারি, ডিসিআর, খতিয়ান ও দাখিলার নামে এখানে অবাধে চলা ঘুষ-বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা এবং বিভিন্ন কাজে নজিরবিহীন দালালির কারণে মীর কাসেম ও তার ভাগিনা আবদুল মালেক মহেশখালীতে ব্যাপক আলোচিত।
এসব অভিযোগে গত বছর মাতারবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শাস্তি মুলক বদলী করা হয়েছিল ঝাড়ুদার মির কাসেমকে। কিন্তু সরকার পতনের পর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতার সহায়তায় বিভিন্ন তদবির চালিয়ে অবশেষে মাতারবাড়ী ভূমি অফিসে পূনরায় বদলী হন বলে জানা যায়।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসে শুরু করেছেন পূর্বের রাম রাজত্ব! অফিসে খুলে বসেছেন ভাতের হোটেল! ভূমি অফিসের ভাতের হোটেল সাবেক ডিবি হারুনের ভাতের হোটেল কেও হার মানিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ভূমি অফিসের কথিত সেই ‘ভাতের হোটেল’ চালু করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাখঢাক না করেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ঝাড়ুদার মীর কাশেম, তার ভাগিনা মালেক কম্পিউটার অপরেটর, ঘুষ-দুর্নীতির ‘রসের হাঁড়িতে মজে অনিয়মকে রূপ দিয়েছেন নিয়মে! আর এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে মাতারবাড়ী-ধলঘাটার সাধারণ মানুষকে। উপজেলার মাতারবাড়ী ভূমি অফিস যেন ঘুষ বানিজ্যের উর্বর ভূমি।
জানাগেছে, তহসিলদারের বাড়ি চট্টগ্রাম হওয়াতে অনেক সময় তিনি কর্মস্থলে সরকারি বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়া আসার কারণে অনুপস্থিত থাকার সুবাদে অফিসের ঝাড়ুদার মীর কাসেম নিজে অফিস সহায়ক পরিচয় দিয়ে অফিসে কাজে আসা গ্রাহকদের কাজ সম্পাদনের বিষয়ে টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। দীর্ঘ কয়েক দিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই ভূমি অফিসে সেবা প্রার্থীদের হয়রানির চিত্র।
ভূমি অফিসকে ঘিরে ঝাড়ুদারের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ভূমি অফিসের চৌহদ্দিতে এ চক্রের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বেশ সরব। অফিসের টাইমের বাইরে রাতে নামজারি, ডিসিআর, খতিয়ান ও দাখিলা সংক্রান্ত কাজ করেছেন তহসিলদারের যোগসাজসে ঝাড়ুদার নিজেও। এতে হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারী ফি থেকে দুই তিন গুণ টাকা। বলতে গেলে টাকা দিলে সব হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোক্তভোগি জানান, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় ঝাড়ুদার তহসিলদারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ভূমি অফিসের সব ধরনের কাজ ঝাড়ুদার ও তার ভাগিনা নিজ হাতে করতে কোনো বাধা নেই। এ কারণে মাতারবাড়ী – ধলঘটারর সাধারণ মানুষ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ২২৩ টাকা খাজনার রশিদ দিয়ে ৩ হাজার টাকা আদায় করারও অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী একজন ঝাড়ুদারের কাজ অফিস পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখা। সেখানে চেয়ার টেবিলে বসে খাজনা ও খতিয়ানের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করায় হতবাক সেবা প্রার্থীরা।
তথ্যসুত্রে জানাযায়, মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের নলবিলা গ্রামের জনৈক মৃত মিয়া হোসেনের পুত্র মীর কাসেম গত ২৫ বছর ধরে মহেশখালী ভূমি অফিসে ঝাঁড়দারের দায়িত্ব পালন করেছিলে। ঐ অফিসে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে আনুষাঙ্গিক খাত হতে নির্ধারিত মাসিক অল্প বেতনে দীর্ঘ সময় জুড়ে একই চাকরি করে আসলেও এই ভূমি অফিসে বড় কর্তার ভাব দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। ঝাড়ুদার মীর কাসেম অল্প বেতনে চাকরি করে গ্রামে নির্মাণাধীন বাড়িটি সবার চোখ জুড়াচ্ছে। ভবন দেখে প্রশান্তি পেলেও এটি গড়ার উৎস সম্পর্কে ভাবতে গিয়ে কপাল ভাজ করেছেন পাড়া প্রতিবেশি।
অপরদিকে ভূমি অফিসের কর্তাদের আস্কারা পেয়ে অঘোষিতভাবে কম্পিউটারম্যান ঝাড়ুদার মির কাসেম এর ভাগিনা হওয়ার সুবাদে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে এবং কোনো প্রকার নীয়মনীতি তোয়াক্কা করছে না। দালালদের সাথে গভীর সম্পক সখ্যতা থাকায় দাখিলা থেকে শুরু করে খতিয়ানের কন্ট্রাক নেয় বলে জানাগেছে।
বর্তমান মহেশখালীর মাতারবাড়ী-ধলঘাটায় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পসহ বেশকিছু উন্নয়ন মুলক কাজ চলমান। এতে ভূমির অনেক মালিক উক্ত ঝাড়ুদার মীর কাসেম ও তার ভাগিনা কম্পিউটার ম্যান আবদুল মালেক এর কারণে নামজারি, ডিসিআর, খতিয়ান ও দাখিলা সংক্রান্ত কাজে আবারও আতংকিত হয়ে পড়েছে সাধারণ ফরিয়াদি লোকজন। এ অবস্থায় বহু বির্তকিত এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক স্থায়ী ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন মাতারবাড়ী – ধলঘাটাবাসী।
ঝাড়ুদার মীর কাসেমের সাথে উক্ত বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয় টা কৌশলে এড়িয়ে যান।
এবিষয়ে মাতারবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) চন্দন কুমার দাস বলেন, অফিস সহায়ক না থাকায় ইউএনও স্যারের নির্দেশে অফিসের কাজ কাসেম কে দিয়ে আদায় করা হচ্ছে। তবে কাসেম লোকজনের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে কন্টাক্ট করে কাজ করছে কিনা আমার জানা নেই। এবিষয়ে ইউএনও সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
উল্লেখ যে, ঝাড়ুদার মির কাসেম বিগত সময় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েবে করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে তা পাবলিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি ঠের পেয়ে গত ২০১১ সালের ২৬ এপ্রিল মহেশখালীর তৎকালীন সহকারি কমিশনার (ভূমি) খালেদ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় জিডি পর্যন্ত করেন।


