মহেশখালী প্রতিনিধি
মহেশখালীর ছোট মহেশখালী আদর্শ গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাত্র চার বছরের এক শিশুর প্রাণ গেলো অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার বলি হয়ে।
পরিবারের একমাত্র আদরের কন্যা তাসপিয়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে গভীর পানিতে পড়ে মারা যায়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা পরিচালনা ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে ঘটে যাওয়া এক প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ছোট মহেশখালী আদর্শ গ্রামের পাশে একটি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে মাটি খনন করে বড় একটি পুকুর তৈরি করেছে। পুকুরটির গভীরতা প্রায় ৪০ ফুটেরও বেশি। সেখানে জমে থাকা পানিতে শিশু ও গবাদি পশু পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ইটভাটা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বা ঘেরাবেষ্টনীর ব্যবস্থা নেয়নি।
গতকাল দুপুরে তাসপিয়া বাড়ির পাশে খেলতে খেলতে হঠাৎ পা পিছলে সেই গভীর পানিতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে অনেক কষ্টে শিশুটিকে উদ্ধার করে মহেশখালী নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিকেলে তাসপিয়ার জানাজায় অংশ নেয় পুরো গ্রাম। শিশুটির নিথর দেহ দেখে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক প্রতিবেশী বলেন, “তাসপিয়া আমাদের সবার প্রিয় ছিল। প্রতিদিন হাসিমুখে ‘খালা’, ‘চাচা’ বলে ডেকে যেত। আজ সেই মুখ চিরতরে নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুকুরটি খনন করেছে এলাকার এক প্রভাবশালী ইটভাটার মালিক, যারা মাটি কাটার সময় স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেয়নি।একাধিক বাসিন্দা জানান, “আমরা বারবার বলেছি, পুকুরের চারপাশে বেড়া দিন, বাচ্চারা পড়ে যাবে। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন। এক পরিবেশকর্মী বলেন, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা এক ধরনের হত্যাকাণ্ড। প্রশাসন যদি আগে ব্যবস্থা নিত, আজ তাসপিয়ার প্রাণ যেত না।”
দুর্ঘটনার পর গ্রামবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ, মাটিখেকো কার্যক্রম বন্ধ, নিহত শিশুর পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল হক বলেন,“বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ বলেন,“ঘটনার খবর পেয়ে আমরা এসিল্যান্ডকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। কেউ আইনভঙ্গ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
আজ ছোট মহেশখালীর আদর্শ গ্রামে শুধুই শোকের ছায়া। তাসপিয়ার নিষ্পাপ মুখ যেন বলে যাচ্ছে—“আমি তো শুধু খেলতে গিয়েছিলাম, এত বড় শাস্তি কেন?