মিষ্টি পানের অস্থিতিশীল বাজারে-চাষিরা ভাবছেন পেশা পরিবর্তনের কথা

এম আব্দুল মান্নান
মহেশখালীর প্রখ্যাত মিষ্টি পানের বাজারে দীর্ঘ এক বছর ধরে স্বস্তি নেই। উৎপাদন খরচের তুলনায় পাইকারি দাম কম থাকায় অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়ছেন। অন্যদিকে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছেন। ফলে শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্য আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
মহেশখালীর মিষ্টি পানের খ্যাতি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এখানকার মাটি, আর্দ্র আবহাওয়া এবং চাষিদের অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের মিষ্টি পানকে দিয়েছে আলাদা স্বাদ ও মান। শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মহেশখালীর মানুষ শুধু জীবিকার জন্য নয়, ঐতিহ্যের দায়বদ্ধতা নিয়েও পান চাষে নিয়োজিত। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও পারিবারিক আয়োজনে মিষ্টি পান এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাতের সামনে কঠিন বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় চাষিরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না। অন্যদিকে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তা মিষ্টি পানের নাগাল হারাচ্ছেন।
স্থানীয় চাষি হেলাল উদ্দিন জানান, “আমরা চাই ঐতিহ্য ধরে রাখতে। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আর লাভ নেই। অনেকেই অন্য পেশার দিকে যাচ্ছেন। যদি বাজারে স্থিতিশীলতা না আসে, ঐতিহ্যও হারিয়ে যাবে।”
দোকানি হারুনুর রশিদ বলেন, “মানুষ এখন কম দামের বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। পছন্দের মিষ্টি পান অনেকের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। এতে চাহিদা কমছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চার্ষিরা।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “চাষিদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগে বাজারে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব। একই সঙ্গে চাষিদের আধুনিক চাষাবাদ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।”
সরেজমিনে গোরকঘাটা পান বাজার, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক ও শাপলাপুর ঘুরে দেখা গেছে—সবখানেই চাষিদের মধ্যে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। অনেক পরিবার ভাবছেন, তারা হয়তো এই প্রাচীন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।
অভিজ্ঞ চাষিরা বলছেন, “বাজারের অস্থিতিশীলতা এভাবে চলতে থাকলে জীবিকার নিরাপত্তা হারাব। সরকারি সহায়তা ছাড়া আমরা আমাদের শতবর্ষী ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারব না।”
আপনার মতামত লিখুন :
Leave a Reply
More News Of This Category


