
মহেশখালী প্রতিনিধি
“আমাদের নদী আমাদের সম্পদ—নদী বাঁচান, জেলেদের জীবন বাঁচান” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মহেশখালীর কোহেলিয়া নদী পুনরুদ্ধার ও জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মৎস্যজীবিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকাল তিনটায় কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদশাহ ঘোনা ঘাটে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে—বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মহেশখালী শাখা, মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চ, উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশন ও কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাপা মহেশখালী শাখার সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন নূরী পিয়ারু। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি নুর মোহাম্মদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপকূল সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, মহেশখালী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম এবং কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোছাইন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাপা মহেশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক ও মহেশখালী জন-সুরক্ষা মঞ্চের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল হোসাইন, বোট মালিক সমিতির সভাপতি আহমদ উল্লাহ, মৎস্যজীবি সমিতির সদস্য জয়নাল আবেদীনসহ স্থানীয় বোট মালিক ও মাঝিমাল্লাগণ।
সভায় বক্তারা বলেন, মহেশখালীতে কয়েক হাজার জেলে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সাগর-নদীর উপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত ৫–৬ বছরে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের’ নামে কোহেলিয়া নদী পরিকল্পনাহীনভাবে ভরাট ও দখল হওয়ায় নদীর আগের গভীরতা ও প্রস্থ হারিয়ে গেছে। ফলে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, মাছ কমে গেছে এবং বহু জেলে পেশা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে।
তারা দ্রুত কোহেলিয়া নদী পুনরুদ্ধার ও মোহাম্মদশাহ ঘোনার খাল খননের দাবি জানায়।
বক্তারা অভিযোগ করেন—নদী ও সমুদ্রে কিছু অসৎ কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ সদস্য মাঝে-মধ্যে জেলেদের হয়রানি করে থাকে। এসব হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তারা।
সভায় বাপা ও জন-সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বরাও বলেন—জেলেরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই নৌপথে মাছ আহরণকারী জেলেদের অযথা হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান তারা।


