
মহেশখালী প্রতিনিধি
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নে আলোচিত কাশেম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ একাধিক আসামি সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে—জামিনে বের হওয়ার পর আসামিরা এখন উল্টো নতুন মামলা, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন নিহত কাশেমের স্ত্রী, সন্তান এবং নিকটাত্মীয়রা।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, কাশেম হত্যা মামলার আসামিরা হলেন—নামঃ-১। শাহেদ খান (২৪) পিতা-গফুর মিয়া২। গফুর মিয়া (৪৫) পিতা-মৃত ছালে আহামদ ৩। কামরুল হাসান (৪২) পিতা-ঐ
৪। মোঃ রাসেল (৩২) পিতা-বাহাদুর মিয়া
৫। শবে মেহেরাজ (৫৫) পিতা-মৃত কালা মিয়া
৬। মোঃ সাজ্জাদ (২০) পিতা-গফুর মিয়া
৭। মোঃ আলমগীর (৩৮) পিতা-আলী হোছন মিয়া
৮। মোঃ ইরফান (২০) পিতা-কামরুল হাসান
৯। শামীমা আক্তার (৪২) স্বামী-গফুর মিয়া
১০। সুফিয়া গান্ডার (৩৬) স্বামী-মোঃ রাসেল, সর্বসাং-কামিতার পাড়া (মনছরপাড়া)
কুতুবজোম, থানা-মহেশখালী, জেলা-কক্সবাজার। আরো ২/৩ জন আছেন বলে জানা যায়।
পরিবারের অভিযোগ—এই আসামিদের অনেকেই এখন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নানা উপায়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী বলেন,“বিচারের আশায় মামলা করেছি। কিন্তু আজ আমরা নিজেরাই জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাতের বেলা তারা বাড়ির পাশে ঘোরাঘুরি করে। ফোনে, লোক মারফত নানা হুমকি দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
নিহত কাশেমের মেয়ে বলেন,“বাবাকে হত্যার পরও শান্তি নেই। মামলার আসামিরা এখন আমাদেরকেই টার্গেট বানিয়েছে। মামলা তুলে না নিলে আমাদের ক্ষতি করবে—এমন হুমকিও দিচ্ছে।”
পরিবার আরো জানায়, কয়েকদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনক অবস্থান নেওয়া, পথরোধ করা, প্রকাশ্যে ধমক দেওয়া এবং হয়রানিমূলক অভিযোগ এনে নতুন মামলার ভয় দেখানো—এসবই তাদের যেন নিত্যদিনের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কাশেম হত্যাকাণ্ড ঘটনার পর এলাকাজুড়ে একধরনের ভীতি তৈরি হয়েছিল। তবে আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন—“নিহত কাশেমের পরিবার এখন সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন। আমরা নিজেরাও চিন্তায় আছি যে আবার বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।”
গত এপ্রিল মাসে কুতুবজোম ইউনিয়নের মেহেরিয়া পাড়ায় জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে কাশেমকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় হত্যা মামলা করলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকলেও আসামিরা দীর্ঘ কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পায়।
তিনি আরও বলেন—“মামলা চলমান অবস্থায় আসামিদের দ্বারা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করা আইনগত একটি অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবার বলেছে,“একটা খুনের মামলার আসামিরা যখন খোলা মাঠে ঘুরে বেড়ায় তখন বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। আমরা প্রশাসনের ওপর ভরসা করেছি। এখন শুধু নিরাপত্তা ও ন্যায় চাই।”
কাশেম হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উল্টো মামলার ঘটনায় পুরো এলাকার পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। নিহতের পরিবার এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তার অপেক্ষায় আছে।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুর হক বলেন—“মামলা চলমান অবস্থায় আসামিদের দ্বারা ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


