মহেশখালীতে বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট—৭ বছরের সাথী মনির মর্মান্তিক মৃত্যু

মহেশখালী প্রতিনিধি
মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা গ্রামের চরপাড়া এলাকায় প্রতিবেশির গোপনে পাতানো বৈদ্যুতিক সংযোগে ছয়/সাত বছর বয়সী সাথী মনি (৭) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। নিহত সাথী মনি ওই এলাকার মুহাম্মদ আলমগীরের কন্যা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবেশি তাঁর বাড়ির চারপাশে টিনের ঘেরা করে চোর প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে রাতের বেলায় গোপনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন; আশেপাশের বাসিন্দারা বিষয়টি জানতেন না। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালবেলায় খেলার সময়ে শিশুটি টিনে হাত দিলে আধা-উচ্চ ভোল্টেজের শক লেগে সে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও গাম্ভীর্যের ছায়া নেমে আসে। নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা বলেন, “যদি কেউ আগে জানত, হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। এটি দুর্ঘটনা নয়—এটি অবহেলার সীমা ছুঁয়ে এক ধরনের পরিকল্পিত উপায়।” স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেদায়েত উল্লাহ বলেন, “এভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক; আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করেছি এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুল হক জানান, “প্রাথমিকভাবে আমরা এটিকে জীবননাশী ফাঁদ হিসেবে বিবেচনা করছি। এটি ফৌজদারি অপরাধ; ঘটনার অবতারণার সঙ্গে কারও পক্ষযোগ বা অসাবধানতা থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য শামশুর আরম বলেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। বাড়ির নিরাপত্তার নামে কেউ মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলতে পারবে না—দৃশ্যত এটি পরিকল্পিত ঘাম্মা; দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দরকার যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজের সাহস না পায়।”
নিহতের পরিবারের এবং স্থানীয়দের দাবী— দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান চালাচ্ছে; তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :
Leave a Reply
More News Of This Category


