বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
Headline :
অনলাইন আরবী ভাষা প্রশিক্ষণে বিএমটিটিআই’র প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মৌলানা ইয়াছিন কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু: আদিনাথ মন্দিরের উত্তরাংশ থেকে চৌফলদণ্ডি হওয়ার সম্ভাবনা মহেশখালীতে মায়ের কিডনি দানে সন্তানের জীবনরক্ষা মহেশখালীতে বৈশাখী কবিতা পাঠ ও আড্ডা—সংস্কৃতির রঙে মুখর বন্ধু সভা হোয়ানকে জন্মসাল জালিয়াতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ৮ হাজার কোটি টাকার এসপিএম ঘুমে, জ্বালানিতে লোকসান গুনছে দেশ সোনাদিয়ায় দুষ্কৃতিকারীদের হামলা, কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিদেশি পর্যটক উদ্ধার মহেশখালীতে অদক্ষ ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা সভা মহেশখালীতে ইউপি সদস্য রিমনের বাড়িতে পুলিশের অভিযান: অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার, মামলা দায়ের মহেশখালীতে পুকুরে ডুবে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

সোনাদিয়ায় অভিযান: প্যারাবন উজাড়কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

সম্পাদকীয় ◾
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন কেটে তৈরি করা একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা অভিযানে নৌবাহিনী, বন বিভাগ ও পুলিশ অংশ নেয়। এ সময় মোট ১১টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে ছিল চিংড়িঘের শ্রমিকদের থাকার ছয়টি ঘর এবং খালের মুখে পানি আটকানোর জন্য কাঠ ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি পাঁচটি বাঁধসদৃশ স্থাপনা।
অভিযান পরিচালনার সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সোনাদিয়া দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে ৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ দ্বীপকে সুরক্ষিত রাখতে যা যা করা দরকার, তা আমরা করব। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, সবার অংশগ্রহণই সবচেয়ে জরুরি।”
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্লাহ বলেন, “আজ নৌবাহিনী, পুলিশ ও বন বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে ১১টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখল পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে এখানে বনায়ন করা হবে। নতুন করে আর প্যারাবন কাটতে দেওয়া হবে না।” তিনি জানান, সোনাদিয়ায় বন বিভাগের বিট অফিস ফিরিয়ে আনার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোনাদিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী চক্র লবণ ও চিংড়িঘের করার জন্য হাজার হাজার একর প্যারাবন কেটে ফেলছে। শুষ্ক মৌসুমে লবণচাষ আর বর্ষায় চিংড়িচাষ—এই দ্বিমুখী আয়ের লোভেই চলছে বন নিধনের এই ধ্বংসযজ্ঞ।
একজন লবণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক একর জমিতে বছরে প্রায় আট লাখ টাকার লবণ উৎপাদন হয়। তিনি বলেন, “প্রতি একরে এক হাজার থেকে এক হাজার ৩০০ মণ লবণ হয়। মাঠে প্রতি মণ লবণ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। কেউ যদি ২০ একর জমি দখল করে লবণচাষ করে, তাহলে শুধু লবণ থেকেই বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা আয় হয়।”
তবে লবণের চেয়ে আরও বেশি লাভজনক হচ্ছে চিংড়িচাষ। সোনাদিয়ায় এখন প্রায় ৫০টি বড় চিংড়ি প্রজেক্ট রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্প গড়ে ৫০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। স্থানীয়দের হিসাবে, একেকটি প্রজেক্টে বছরে ২ কোটি থেকে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত আয় হয়। ঘটিভাঙ্গা ও বড় মহেশখালী মৌজাসহ আশপাশের এলাকাতেও নতুন নতুন প্রজেক্ট তৈরি হচ্ছে। এসব প্রজেক্টের জন্য নিয়মিত প্যারাবন কেটে ফেলার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, সোনাদিয়ার প্যারাবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল নয়, উপকূলকে সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য। প্যারাবন ধ্বংসের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ও স্থানীয় পরিবেশ।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সোনাদিয়ায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নতুন করে বনায়ন শুরু করা হবে। এ ছাড়া বন বিভাগের বিট অফিস পুনঃস্থাপন হলে দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page