
এম আজিজ সিকদার
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাষ্ট্র। ভিন্ন মতাদর্শ, ভিন্ন পথ ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে—এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, রাষ্ট্র কারও একার নয়, বরং সবার।
এই রাষ্ট্র সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত করতে হলে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ গণতন্ত্র মানে একদলীয় কর্তৃত্ব নয়; গণতন্ত্র মানে সবার অংশগ্রহণ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছেন—
“শেখ হাসিনা ১৫ বছর প্রতিপক্ষকে ভোটে দাঁড়াতেই দেননি, তার শাস্তি পেয়েছেন। তাহলে আমরাও কেন একই কাজ করব? যদি একই অপকর্ম করি, তবে আমাদেরও প্রতিফল ভোগ করতে হবে।”
এই বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আছে— গণতান্ত্রিক চর্চার বিকল্প নেই। যে-ই হোক, যদি ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়, তার শাস্তি ইতিহাসের হাতেই ধরা দেবে। নির্বাচন কারও দয়া নয়, এটি জনগণের অধিকার।
অপরাধ করলে শাস্তি হবে আইনের মাধ্যমে। কিন্তু ভোটাধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। যে কোনো মূল্যে নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
আজকের বাস্তবতায় এটাই সত্য— বাংলাদেশ সবার। নির্বাচন সবার।গণতন্ত্রও সবার।
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র হস্তান্তর করতে চাইলে এখনই সঠিক পথে ফিরে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।


