
এম আজিজ সিকদার
পাহাড়, নদী ও সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তনের স্রোত বয়ে যাচ্ছে, তা নিছক কাকতাল নয়—এর পেছনে আছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেদায়েত উল্লাহর সাহসী পদক্ষেপ, সৃজনশীল চিন্তা এবং জনবান্ধব মনোভাব। এক দশক আগেও মহেশখালী ছিল যানজট, পরিবেশ বিপর্যয়, নৌযাত্রার অনিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার টানাপোড়েনের প্রতিচ্ছবি। অথচ আজ দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে দ্রুত।
দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষায় পাহাড় কাটা ও প্যারাবন ধ্বংস ঠেকানো পর্যন্ত নানা উদ্যোগ এখন বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় এবং মানোন্নয়নের কার্যক্রম শিক্ষা খাতে প্রাণ সঞ্চার করছে। আবার মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় এনেছে স্বস্তি। স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেও এসেছে দৃশ্যমান অগ্রগতি।
সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয়েছে গণশুনানি উদ্যোগ। প্রতি বুধবার সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, এর ফলে দ্রুত সমাধান হচ্ছে বহু দীর্ঘসূত্রিতার সমস্যা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এই সংস্কৃতি শুধু প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনেনি, বরং মানুষকে দিয়েছে আশার আলো।
অন্যদিকে ইউএনও’র নতুন পরিকল্পনা—পৌরসভায় আগত প্রতিটি নাগরিককে এক কাপ চা খাওয়ানো—প্রথমে হয়তো তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এটি আসলে নাগরিকের প্রতি প্রশাসনিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার প্রতীক। ছোট এই পদক্ষেপই মানুষের মনে বড় প্রভাব ফেলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ লিখছেন, “একদিন হয়তো বিদায় নেবেন ইউএনও হেদায়েত উল্লাহ, তখন মহেশখালীবাসী তাকে অশ্রুভেজা স্মৃতিতে বিদায় জানাবে।” আসলেই, এই কথার সত্যতা এখন প্রতিদিন প্রমাণিত হচ্ছে। কারণ উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনে শান্তি, নিরাপত্তা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।
মহেশখালীর মানুষ এখন দেখছে, ভালো প্রশাসন কেমন হতে পারে। ইউএনও হেদায়েত উল্লাহ দেখিয়েছেন, “মানুষকে ভালোবাসাই হলো সত্যিকারের শাসন, আর হৃদয় জয় করাই হলো সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।” তার জনবান্ধব কর্মতৎপরতা আজ মহেশখালীর উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


