মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline :
মহেশখালী পৌরসভায় মোবাইল কোর্ট অভিযান, যুবকের কারাদণ্ড মহেশখালীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান: ৩ ফার্মেসিকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা মহেশখালী পৌরসভায় মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের পাশে সেলিম উল্লাহ সিকদার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে এনসিপি নেতা  গ্রেপ্তার শব্দে-ছবিতে মহেশখালীর সাংবাদিকদের নতুন যাত্রা মহেশখালীতে মাসে ৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার, বকেয়া ছাড়ালো ১০ কোটি আমের বটিতে পিচলালো চাকা, ঝরে গেল শাকের উল্লাহর প্রাণ বড় মহেশখালী সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত যুবক মহেশখালীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

পান্তা-ইলিশহীন নববর্ষেও বর্ণিল উৎসবে মুখর মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে উৎসব, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধনে। তবে এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক ছিল,বাংলা নববর্ষের বহুল প্রচলিত খাবার পান্তা-ইলিশের অনুপস্থিতি। তবুও উৎসবের রঙে কোনো ঘাটতি ছিল না; বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই উপজেলা প্রশাসন মহেশখালী-এর আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জমতে থাকে মানুষের ঢল। লাল-সাদা শাড়ি, পাঞ্জাবি ও বৈশাখী সাজে সজ্জিত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে যেন এক টুকরো গ্রামীণ-বাঙালিয়ানা ফিরে আসে শহরের ব্যস্ততার মাঝে।
সকাল ৯টায় শুরু হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রায় স্থান পায় গ্রামীণ জীবনের নানা প্রতীক-পাখি, মাছ, ঘুড়ি, ঢোল, মুখোশসহ রঙিন শিল্পকর্ম। ঢাক-ঢোলের তালে তালে পুরো শহর যেন এক আনন্দ মিছিলে রূপ নেয়। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ এই শোভাযাত্রা উপভোগ করেন, অনেকেই মোবাইলে সেই মুহূর্তগুলো ধারণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে উপস্থিত ছিলেন ইমরান মাহমুদ ডালিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার, মহেশখালী থানা-এর ওসি মোহাম্মদ সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজা খান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নতুন বছরে উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদারের আহ্বান জানান। তারা বলেন, নববর্ষ কেবল একটি উৎসব নয়,এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতীক।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বৈশাখী মেলা, যেখানে স্থানীয় কারুশিল্প, গ্রামীণ পণ্য ও নানা ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল বসে। শিশুদের জন্য ছিল খেলাধুলা, নাগরদোলা, বেলুন ও নানা বিনোদনের আয়োজন। এছাড়া স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়।
তবে এবারের নববর্ষে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পান্তা-ইলিশের অনুপস্থিতি। সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছ সংরক্ষণ, বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পান্তা-ইলিশের আয়োজন রাখা হয়নি। অনেকেই বিষয়টিকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ কেউ ঐতিহ্যের একটি অংশ হারানোর আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন।
দর্শনার্থী শাহারিয়ার কবির বলেন, পান্তা-ইলিশ না থাকলেও উৎসবের আনন্দে কোনো ঘাটতি নেই। আমরা সবাই একসাথে নতুন বছরকে বরণ করতে পেরেছি,এটাই বড় কথা। আরেকজন অভিভাবক জানান, শিশুদের অংশগ্রহণই এবারের উৎসবকে সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত করেছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী আয়োজনের দিকটি বিবেচনায় রেখেই এবারের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে অনুষ্ঠানগুলো পরিচালনা করা হয়েছে।
পান্তা-ইলিশ ছাড়াও মহেশখালীর নববর্ষ উদযাপন ছিল আনন্দ, ঐতিহ্য ও মানুষের মিলনমেলার এক অনন্য উদাহরণ। নতুন বছরের সূচনায় এই আয়োজন মানুষের মাঝে নতুন আশা, প্রেরণা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page