মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline :
মহেশখালী পৌরসভায় মোবাইল কোর্ট অভিযান, যুবকের কারাদণ্ড মহেশখালীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান: ৩ ফার্মেসিকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা মহেশখালী পৌরসভায় মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট, যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের পাশে সেলিম উল্লাহ সিকদার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে এনসিপি নেতা  গ্রেপ্তার শব্দে-ছবিতে মহেশখালীর সাংবাদিকদের নতুন যাত্রা মহেশখালীতে মাসে ৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার, বকেয়া ছাড়ালো ১০ কোটি আমের বটিতে পিচলালো চাকা, ঝরে গেল শাকের উল্লাহর প্রাণ বড় মহেশখালী সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত যুবক মহেশখালীতে ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

১০৫ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ! কিন্তু মালিক অজানা — প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক◾

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জালের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ মিটার, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১০৫ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক অফিসিয়াল বার্তায় বলা হয়েছে:
“মহেশখালীতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় ১ শত ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ কোটি ৫০ লক্ষ মিটার বিদেশি অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ।”

তবে জনমনে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে জালের মালিকানাসংক্রান্ত তথ্যের অভাব। এত বড় চালান জব্দ হলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসন কিংবা কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মালিকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সচেতন মহল এবং স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি আইন প্রয়োগের বিষয় নয় — বরং এর পেছনে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অদৃশ্য প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, “যদি তদন্তের স্বার্থে নাম গোপন রাখা হয়, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু যদি প্রভাবশালীদের রক্ষা করতেই তথ্য চাপা দেওয়া হয়, তাহলে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ভয়ংকর।”

এই বিপুল পরিমাণ জাল কোথা থেকে জব্দ করা হয়েছে — কার গুদাম বা ঘর ব্যবহার হয়েছে — সেটিও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, “জব্দের সংবাদ তো আছে, কিন্তু জবাবদিহিতা কোথায়? কার গুদাম থেকে, কার সংরক্ষণে এত বিপুল অবৈধ জাল এল — তা গোপন কেন?”

মহেশখালীতে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ কারেন্ট জালের বাণিজ্য চলে আসছে — এমন অভিযোগ বহুদিনের। স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি প্রভাবশালী চক্র এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক থাকারও গুঞ্জন রয়েছে।

পরিবেশবাদী, মৎস্যজীবী, সাংবাদিকসহ সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলছেন,“মূল হোতাদের আইনের আওতায় না আনলে এসব অভিযান লোক দেখানো হয়ে থাকবে — প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আসবে না।”

তারা আরও দাবি জানান, উদ্ধার হওয়া জালের উৎস, গুদাম, সংরক্ষণকারী ও পাচারচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম দ্রুত প্রকাশ করা হোক এবং বিচারের মুখোমুখি করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page